সাদা ও বাদামি ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন

ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা: বাংলাদেশ-ভারত, চীনসহ অনেক দেশেই ভাত প্রধান ও প্রিয় খাবারের মধ্যে একটি। কিন্ত নিয়মিত ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর? ভাতের মধ্যে কি কি উপাদান থাকে? পুষ্টিবিদরা কি বলছেন ? এসকল প্রশ্নের উত্তর থাকছে আজকের খবরে। তো চুলুন জানা যাক।

ভাত: এক ধরনের শস্য জাতীয় খাবারে কার্বোহাইড্রেট শর্করার প্রধান উৎস। বিশ্বের অর্ধেক মানুষ কার্বোহাইড্রেট এর চাহিদা মেটাতে ভাত খায়।

সাদা চালের উপরে থাকা পুষ্টিসমৃদ্ধ আসে আবরণ তুলে ফেলা হয়, এদের চাল বেশিদিন টেকে রান্না হয় দ্রুত এবং এটির সহজপাচ্য তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন। পুষ্টির দিক থেকে সাদা চালে তুলনামূলক কম এবং প্রোটিন থাকে। অন্যদিকে বাদামি সালের আবরণ থাকায় এটি অধিক পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু।

সাদা চালের ভাত এবং বাদামী চালের ভাতের পুষ্টিগুণে কিছু পার্থক্য আছেঃ

 

সাদা ও বাদামি ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন
সাদা ও বাদামি ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন

ভাত নিয়ে ৭টি তথ্যঃ
১। ওজনের ক্ষেত্রে ভাতের ভুমিকা।

সাদা ও বাদামি ভাত খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

সাদা ভাতঃ

কোন কোন গবেষণায় দেখা গিয়েছে সাদাভাত ওজন বাড়াতে ও পেটে চর্বি জমার কারণ হতে পারে। আবার অন্যান্য কিছু গবেষণায় সাদা ভাতের সাথে এগুলোর কোনো সম্পর্ক পাওয়া যাইনি তবে, নিয়মিত সাদা ভাত খেলে রক্তে কার্বোহাইড্রেট এর মাত্রা বেড়ে যায় বলে ধারণা করা হয়। এর ফলে ওজন বাড়তে পারে।

বাদামি ভাতঃ

অন্যদিকে বাদামি ভাতের মধ্যে রয়েছে ফাইবার এবং প্রোটিন কার্বোহাইড্রেট সাদা ভাতের চাইতে দ্রুত শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এ কারণে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যায় ও ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে এগুলো সবই শক্তি বাড়ায় ক্ষুধা কমায় এবং ওজন ঠিক রাখতে সাহায্য করতে পারে বলে পুষ্টিবিদদের জানিয়েছেন।

হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় বলা হচ্ছে প্রতিদিন সাদা ভাত খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে যাতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে তারা দিনে দুই বেলা পরিমিত বাদামি ভাত খেতে পারবেন বলে মনে করেন পুষ্টিবিদ তাস্নিম হাসান চৌধুরী।

অন্যদিকে যাদের ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত তাদেরকে এক বেলার বেশি ভাত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি আরো বলেছেন,  সেটি হবে পরিমিত। তবে বাদামি চালের ভাত অথবা সাদা চালের ভাত খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়া যাবে না। কারণ থেকে নিঃসরিত গ্লুকোজ দ্রুত আমাদের রক্তে মিশে জায়। তাই ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে ভাত খেতে হবে এবং কায়িক পরিশ্রম করতে হবে।

ব্যক্তির ওজন অনুযায়ী পুষ্টিবিদরা তাদের ভাত খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করে থাকেন। বাদামী চালের আবরণে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে যেমন – হূদরোগ, টাইপ টু ডায়াবেটিস এমনকি অগ্নাশয় ও গ্যাস্ট্রিক সহ কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বলে অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে।

পুষ্টিবিদ বিডিটররেন্টস লিখেছেন, অনেক লেট তাদের শক্তি বাড়ানোর উৎস হিসেবে বিশেষ করে শরীরচর্চার পর সাদা ভাত কে বেছে নেন। কারণ সাদা ভাতে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকে যা কায়িক শ্রমের পরে মাংসপেশির গ্লাইকোজেন মাত্রা দ্রুত পুনরুদ্ধারের সাহায্য করে।

সাদাভাত সহজে হজম হয় এবং সঠিকভাবে রান্না করে খেলে গ্যাস্ট্রিকের আশঙ্কা থাকে না যারা বুকে জ্বালাপোড়া বমি বমিভাব বিশেষ করে পরিপাকতন্ত্রের জটিল রোগে ভুগছেন তাদের জন্য সাদা ভাত বেশি উপকারী।

ভাত প্রাকৃতিক ভাবে দূষণমুক্ত হওয়ায় যারা পরিপাকতন্ত্র সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি ভাল বিকল্প। বিশেষ করে বাদামি ভারতে অদ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে যা হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া সংখ্যা বাড়ায়।

ভাত খাব তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও গবেষণায় বলা হচ্ছে এর থেকে আর্সেনিক দূষণ হতে পারে। আর্সেনিক বাদামী চাল এর আবরণে বেশি থাকে আর্সেনিকের প্রভাবে হূদরোগ এমনটি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পা্রে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা।

কিন্তু চাল রান্নার আগে সেটা ভালোভাবে ধুয়ে নিলে বেশি পানিতে সেদ্ধ করলে আর্সেনিকের ছুটি কাটানো সম্ভব এছাড়া প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিতভাবে পাশাপাশি অন্যান্য সুষম খাবার খেলে উপকার আশে বলে পুষ্টি বিদরা মনে করেন।